০১. অধিকার সচেতনতা: সাধারণ ভোক্তাদের প্রতারণা এড়াতে এবং পণ্য বা সেবার সঠিক মান যাচাই পদ্ধতি সম্পর্কে মাঠপর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা।
০২. আইনি ও পরামর্শ সেবা: কোনো ভোক্তা প্রতারিত হলে বা ভেজাল পণ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে করণীয় নির্ধারণে আইনি সহায়তা এবং উপযুক্ত পরামর্শ প্রদান করা।
০৩. অভিযোগ প্রক্রিয়া: জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কীভাবে সঠিক উপায়ে আইনি অভিযোগ দায়ের করতে হয়, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে দিকনির্দেশনা ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া।
০৪. ব্যবসায়িক দিকনির্দেশনা: সৎ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি নিয়মাবলী ও মানদণ্ড (যেমন: BSTI বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাইডলাইন) অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া।
০৫. ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ: বাজারে প্রচলিত কোনো পণ্য বা সেবায় আইনগত বা স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকলে তা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী বা উৎপাদনকারীকে তা সংশোধনের জন্য সতর্কতামূলক পরামর্শ প্রদান।
০৬. প্রশাসনের সাথে সমন্বয়: ভেজাল ও বাজার সিন্ডিকেট প্রতিরোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মোবাইল কোর্টের কার্যক্রমকে বেগবান করতে তথ্য বা কৌশলগত পরামর্শ দিয়ে পরোক্ষভাবে সহায়তা করা।
০৭. বাজার গবেষণা: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের কৃত্রিম সংকট, সিন্ডিকেট এবং ভেজাল মেশানোর কৌশলগুলোর ওপর গভীর অনুসন্ধান ও ডেটাভিত্তিক গবেষণা পরিচালনা করা।
০৮. প্রতিবেদন প্রকাশ: গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে নিয়মিত প্রতিবেদন ও শ্বেতপত্র প্রকাশ করা, যা দেশের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাহায্য করে।
০৯. আইন সংস্কারের সুপারিশ: যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যমান ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন বা খাদ্য নিরাপত্তা আইনের কোনো ধারা পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সরকারের কাছে তার যৌক্তিক ও আইনি সংস্কার প্রস্তাব পেশ করা।
১০. প্রশিক্ষণ কর্মসূচি: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তরুণ সমাজকর্মী ও আগ্রহী নাগরিকদের জন্য ‘ভোক্তা-অধিকার ও অপরাধ প্রতিরোধ’ বিষয়ক বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার আয়োজন করা।
১১. কমিউনিটি ফোরাম: তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সচেতন নাগরিক ও তরুণদের নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যারা স্থানীয় বাজারে ভেজাল বা মূল্য কারচুপি দেখলে তাৎক্ষণিক সামাজিক প্রতিরোধ ও সচেতনতা গড়ে তুলতে পারে।